নিজস্ব প্রতিনিধি :
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আইনিভাবে ব্যর্থ হয়ে গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় জামিনে রয়েছেন। এ জামিনও শেষের পথে।
এরই মধ্যে চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে যাওয়ার আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছে খালেদার পরিবার। তবে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন তার ভাই শামীম এস্কান্দার। এ আবেদনে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকফের আবেদন করা হয়েছে কি-না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত খালেদা জিয়া। তবে এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
সূত্র মতে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করছেন খালেদা জিয়ার পরিবার। যেতে চাচ্ছেন লন্ডনে। খালেদা জিয়া নিজেই পরিবারকে দেশ ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে এবার বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করেছে জিয়া পরিবার। পূর্বের ন্যায় ভুল করতে চাইছে না তারা। তাই এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড অন্ধকারে রয়েছে। খালেদা জিয়ার পরামর্শে পরিবারই সবকিছু করছে।
আইনানুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারায় স্থায়ী মুক্তির কোনো বিধান নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি আবেদন করলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে করতে হবে, তবে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। সেখানে তার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে করা পরিবারের আবেদনে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠিয়েছি। তবে মতামতে কী উল্লেখ আছে, তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে জার্মানিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১০ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। মন্ত্রী দেশে আসার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনজীবীরা ভালো জানেন, আইনজীবীরা কী করছেন, আমরা কিছু জানি না।’ বলে ফোন রেখে দেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদার সিনিয়র এক আইনজীবী বলেন, বিদেশে যাওয়ার আবেদনের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। যদি সত্যিই ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বিদেশে যেতে চায়, তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
Leave a Reply